ছেলেবেলা

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গােপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মা-বাবা তাকে আদর করে ডাকতেন 'খােকা' বলে। ১৯২৭ সালে খােকার বয়স যখন ৭ বছর, তখন তিনি স্থানীয় গিমাভাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছােট দাদা শেখ আবদুর রশিদ। এই স্কুলে বঙ্গবন্ধু তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। গ্রামের প্রাকৃতিক আবহে খােকা বড় হয়ে ওঠেন।

রােগা পাতলা আর লম্বা শরীরের অধিকারী ছিলেন বলে, মা সায়েরা খাতুন তার জন্য নিজ হাতে দুধ থেকে মাখন তৈরি করতেন। কৈ মাছ ছিল তার খুব প্রিয়। খােকা খাবারের শেষ পর্যায়ে দুধ-আম দিয়ে ভাত খেতে ভালােবাসতেন। মা খুব যত্ন করে কাঁথা সেলাই করতেন খােকার জন্য। বৃষ্টির দিনে স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য ছেলেকে বারবার নতুন ছাতা কিনে দিতেও মা ক্লান্তিবােধ করতেন না। তার স্নেহের খােকা বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও অন্য ছেলেমেয়েদের নিজের ছাতাটি দিয়ে দিত, একথা শোনার পর মায়ের মনে গর্ব হতাে। খােকা তার সব কথা প্রথম প্রথম মায়ের কাছে মুখ খুলে বলতাে না। কিন্তু মা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করলে খােকা সব খুলে বলতাে। মায়ের গােলার ধান কত মানুষকে তিনি ডালাভরে দিয়েছেন। বাবা শুনতেন, কিন্তু খােকাকে কখনাে বাধা দেননি। খােকা মনে দুঃখ পাবে, চোখের জল ফেলবে-এই কষ্ট মা-বাবা খােকাকে দিতে পারতেন না। তারা মনে করতেন খােকা ভালাে কাজই করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে লিখেছেন, 'আমরা আমার নানার ঘরেই থাকতাম। দাদা ও নানার ঘর পাশাপাশি। আব্বার কাছ থেকেই আমি লেখাপড়া করি। আব্বার কাছেই আমি ঘুমাতাম। তার গলা ধরে রাতে না ঘুমালে আমার ঘুম আসতাে না। আমি বংশের বড় ছেলে, তাই সমস্ত আদর আমারই ছিল।

বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন এন্ট্রান্স পাশ। টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ছিল তার বসত ভিটা। কৃষিজমিও ছিল। সাধারণ মধ্যবিত্ত স্বচ্ছল পরিবার। বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর মা সায়েরা খাতুন, বড়বােন ফাতেমা বেগম, আসিয়া বেগম, ছােটবােন আমেনা বেগম, ছােটভাই শেখ আবু নাসের ও ছােট বােন খােদেজা বেগম। ছেলেবেলায় তাদের সাথেই থাকতেন খােকা। বড় দুই বােনের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। আপন ভাই-বােন ছাড়াও আশ্রিত আত্মীয়-স্বজনের পরিবারের ছেলেমেয়েদের সাথেও তার ছােটবেলা কাটে। বাড়িতে ভােরবেলা মৌলভী সাহেবের কাছে কোরআন শরীফ পড়তেন। গৃহ শিক্ষকের কাছে বাংলা, অংক, ইতিহাস পড়তেন। বাড়ি ও গিমাভাঙ্গা স্কুলে পড়াশােনা, ফুটবলের দল গঠন, বাড়ি বাড়ি ধান তুলে অসহায় ছাত্রদের সাহায্য করা, বাড়িতে বােনদের নিয়ে ময়না, দোয়েল, শালিক ছানা পােষা এসব কাজ করার মধ্য দিয়ে খােকার ছােটবেলা কেটেছে। দুরন্ত শৈশবে খোকা বর্ষার মেঠোপথের ধুলােবালি গায়ে মেখে ভিজতেন।

আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখেছেন, 'আমার মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। তিনি কোনোদিন আমার আব্বার সঙ্গে শহরে থাকতেন না। তিনি সমস্ত সম্পত্তি দেখাশােনা করতেন আর বলতেন, আমার আব্বা আমাকে সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। যাতে তার বাড়িতে আমি থাকি। শহরে চলে গেলে এই বাড়িতে আলাে জ্বলবে না, বাবা অভিশাপ দেবে।'

কৈশােরে খােকা ছিপছিপে ও পাতলা হলেও ফুটবল খেলত। দল নিয়ে যেত চিতলমারী ও মােল্লার হাটে। ছােটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির হলেও গরিব মানুষের প্রতি তাঁর যে মানবিকবােধ তা কৈশােরেই প্রতিফলিত হয়। কৈশােরের দুরন্তপনা ঘিরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই স্বীকারােক্তি ব্যক্ত করেছেন এভাবে- 'আমি ভীষণ একগুঁয়ে ছিলাম। আমার একটা দল ছিল। কেউ কিছু বললে আর রক্ষা ছিল না। মারপিট করতাম। আমার দলের ছেলেদের কেউ কিছু বললে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। আমার আব্বা মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতেন। কারণ ছােট শহর, নালিশ হতো। আব্বাকে আমি খুব ভয় করতাম।'

একবার গিমাভাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে খালে নৌকাডুবি হয়। খােকার মায়ের অন্তর অজানা আশঙ্কায় কেঁদে ওঠে। এরপর খােকার মা তাকে পাঠিয়ে দেন বাবার কাছে। লুৎফর রহমানের অনেক স্বপ্ন। কোর্ট-কাছারিতে উকিল-মােক্তারদের ভীষণ কদর। তিনি ছেলেকে ওকালতি পড়াবেন। নামজাদা আইনজীবী হবে-এই স্বপ্ন বুকে পুষে খােকাকে সবসময় কাছে রাখেন। মাদারীপুরে খােকাকে ভর্তি করানাে হলাে স্থানীয় ইসলামিয়া হাই স্কুলে। স্কুলটি খােকার পছন্দ হলাে। বেশি পছন্দ হলাে লম্বা দিঘিটা। দিঘির পাড়ে এলে খােকার মনে হতাে- এটি টুঙ্গিপাড়ার মধুমতি নদীর লম্বা খাল।

মাদারীপুরে বাবার চাকরির স্থলে খােকা বেশিদিন থাকে নি। চোখে সমস্যার কারণে আবারো সেই টুঙ্গিপাড়ায় ফিরে আসতে হয়। এসময় চোখের সমস্যার জন্য তাকে কলকাতাও যেতে হয়। প্রায় চার বছর লেখাপড়া বন্ধ থাকে।


ঢেঁকিছাটা চাল

মাদারীপুরে থাকাকালে একদিন সন্ধ্যার পর খােকা টেবিলে বই পড়তে বসেছে। কিন্তু বইয়ের পাতার অক্ষরগুলাে খােকার চোখে ঝাপসা লাগে। সাথে সাথে খােকা বাবাকে ডাকে। শেখ লুৎফর রহমান চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাহলে কী খােকার চোখে ছানি পড়েছে? ছেলেকে নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে। মাদারীপুরের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে দেখানোর পর জানা যায়—খোকার চোখে ছানি পড়েনি, তার বেরিবেরি রােগ হয়েছে। ভিটামিন-বি এর অভাবে এই রােগ হয়। এতে চোখের জ্যোতি কমে যায়। এটি ১৯৩৪ সালের ঘটনা। একজন চিকিৎসক খােকার বাবা শেখ লুৎফর রহমানকে কাছে ডেকে বলেন, ঢেঁকিছাটা চাল খেলে বেরিবেরি রােগ সেরে যায়। ওকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিন। কদিন ঢেঁকিছাটা চাল খাক। দেখবেন, চোখে দেখতে শুরু করেছে। প্রয়োজন হলে এরপর কলকাতা নিয়ে যাবেন।

চিকিৎসকের কথা মতাে বাবা শেখ লুৎফর রহমান খােকাকে টুঙ্গিপাড়া নিয়ে আসেন। সায়েরা খাতুন বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। ছােটছেলে নাসিরও পােলিওতে আক্রান্ত। ঘরে লালচাল অর্থাৎ ঢেঁকিছাটা চাল খাওয়ানাে শুরু হলাে। এরপর একদিন খােকার চোখ দেখাতে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো কলকাতায় চিকিৎসক শিবপ্রদ ভট্টাচার্য এবং এ কে রায় চৌধুরীর কাছে। চোখের চিকিৎসার জন্য দুই বছর ব্যয় হয়।

বঙ্গবন্ধু বলেছেন, '১৯৩৪ সালে আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, তখন ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছােটসময়ে আমি খুব দুষ্টু প্রকৃতির ছিলাম। খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম। হঠাৎ বেরিবেরি রােগে আক্রান্ত হয়ে আমার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ে। আব্বা আমাকে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। কলকাতার বড় বড় ডাক্তার শিবপ্রদ ভটাচার্য, এ কে রায় চৌধুরী আরও অনেককেই দেখান এবং চিকিৎসা করাতে থাকেন। প্রায় দুই বছর এইভাবে চলল।'

যাই হোক, কৈশােরে খোকা পাতলা-ছিপছিপে হলেও নিয়মিত ফুটবল খেলত। একবার গোপালগঞ্জ শহরে মহকুমা প্রশাসক এ জেড খান ফুটবল খেলা প্রতিযােগিতার আয়ােজন করেন এবং এই খেলায় সরকারি দলের পক্ষে খোকার বাবার দল ও খােকার দলের মধ্যে বেশ কয়েকবার প্রতিযােগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকবারেই খেলা ড্র হয়। অবশেষে ফাইনাল খেলায় খােকার বাবার দল এ জেড খান শিল্ড জয়লাভ করে। খােকার বয়স তখন মাত্র ১৪ বছর।


চশমা পরা শুরু

১৯৩৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান যখন মাদারীপুর হাই স্কুলে ভর্তি হন তখন আবার চোখে গ্লুকোমার সমস্যায় পড়েন। শেখ লুৎফর রহমান আবার চোখের চিকিৎসার জন্য তাকে কলকাতায় নিয়ে যান। কলকাতার বিখ্যাত টি. আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানের দুই চোখ অপারেশন করেন এবং চশমা পরার নির্দেশ দেন। সেই থেকেই বঙ্গবন্ধুর চশমা পরা শুরু।

এ প্রসঙ্গে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ১৯৩৬ সালে আব্বা মাদারীপুর মহকুমায় সেরেস্তাদার হয়ে বদলি হয়ে যান। আমার অসুস্থতার জন্য মাকেও সেখানে নিয়ে আসেন। ১৯৩৬ সালে আবার আমার চক্ষু খারাপ হয়ে পড়ে। গ্লুকোমা নামে একটা রােগ হয়। ডাক্তারদের পরামর্শে আব্বা আমাকে নিয়ে আবার কলকাতায় রওয়ানা হলেন চিকিৎসার জন্য। এই সময়ে আমি মাদারীপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলাম লেখাপড়া করার জন্য। কলকাতা যেয়ে ডাক্তার টি. আহমেদ সাহেবকে দেখালাম। আমার বােন কলকাতায় থাকতাে, কারণ ভগ্নিপতি এজিবিতে চাকরি করতেন। তিনি আমার মেজোবােন শেখ ফজলুল হক মণির মা। মণির বাবাও শেখ বংশের লােক। বােনের কাছেই থাকতাম। ডাক্তার সাহেব আমার চক্ষু অপারেশন করতে বললেন। দেরি করলে আমি অন্ধ হয়ে যেতে পারি। আমাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিলেন। ভােরে অপারেশন হবে। আমি ভয় পেয়ে পালাতে চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু পারলাম না। আমাকে অপারেশন ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। দশ দিনের মধ্যে দুইটা চক্ষুই অপারেশন করা হল। তাই ১৯৩৬ সাল থেকেই চশমা পরছি।'


বিরতির পর শুরু হয় মিশন স্কুলের জীবন

১৯৩৭ সালে খােকা আবার লেখাপড়া শুরু করেন। এবার আর পুরানো স্কুলে ভর্তি হননি। কারণ তার সহপাঠীরা তাকে পেছনে ফেলে গেছে। তার পিতা তাঁকে গােপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি করে দেন। পিতা লুৎফর রহমানও আবার গােপালগঞ্জে ফিরে আসেন। এসময় খােকাকে পড়ানাের জন্য কাজী আবদুল হামিদ মাস্টার সাহেবকে গৃহশিক্ষক হিসেবে রাখা হয়। তার জন্য একটা আলাদা ঘরও তৈরি করে দিলেন খােকার পিতা। গােপালগঞ্জের বাড়িটা খােকার পিতাই নির্মাণ করেছিলেন।

খােকা ছােটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির হলেও সৎ সাহসিকতা ও গরিব মানুষের প্রতি তার যে মানবিকতাবােধ, তা কৈশােরেই প্রকাশিত হয়। ১৯৩৯ সালের ঘটনা। খোকা তখন গােপালগঞ্জ মিশন স্কুলের ছাত্র। মাঘ মাসের কোনাে একদিন। স্কুল পরিদর্শনে আসেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং তার মন্ত্রিসভার বাণিজ্য ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী। খােকা ভাবে, এইতাে সুযােগ- মুখ্যমন্ত্রী স্কুল পরিদর্শনে এলেই স্কুলের ছাদ মেরামতের কথা বলতে হবে। পরদিন যথাসময়ে মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ও তার মন্ত্রিসভার সদস্য হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী মিশন স্কুল পরিদর্শন করেন। কিন্তু এসময় কেউ ছাদ মেরামতের দাবির কথা বললেন না। খোকা বন্ধুদের নিয়ে স্কুল ছেড়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ালাে। পথ আগলে নয়, পুলিশের পাহারার মধ্যে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করল তারা। খোকা তাদের দাবির কথা প্রকাশ করলো। এই ঘটনার পর খ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্কুলের হােস্টেলের ছাদ মেরামতের জন্য বারােশ’ টাকা মঞ্জুর করেন। সেই সময়েই সোহরাওয়ার্দীর নজরে পড়ে কিশোর শেখ মুজিব।

গােপালগঞ্জের মিশন স্কুলে পড়াকালে শেখ মুজিবুর রহমান নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য ছিলেন।

শৈশব-কিশাের থেকেই খােকা মানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সাহসী। গৃহশিক্ষক কাজী আবদুল হামিদ গােপালগঞ্জে একটি মুসলিম সেবা সমিতি গঠন করেন, যার মাধ্যমে গরিব ছেলেদের সাহায্য করতেন। মুষ্টি ভিক্ষার চাল ওঠাতেন সব মুসলমান বাড়ি থেকে। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, 'প্রত্যেক রবিবার আমরা থলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে চাল উঠিয়ে আনতাম এবং এই চাল বিক্রি করে মাস্টার সাহেব গরিব লােকদের বই ও পরীক্ষার এবং অন্যান্য খরচ দিতেন। ঘুরে ঘুরে গরিব ছাত্রদের জায়গিরও ঠিক করে দিতেন। আমাকেই অনেক কাজ করতে হতো তার সাথে।'

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থে বলেছেন, 'আব্বার একজন গৃহশিক্ষক ছিলেন, তার নাম ছিল হামিদ মাস্টার। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনে সক্রিয় এবং বহু বছর জেল খাটেন। পরবর্তী পর্যায়ে আব্বা বিভিন্ন সময় যখন জেলে থাকতেন অথবা পুলিশ গ্রেফতার করতে আসতাে, আমার দাদি মাঝে মাঝেই সেই মাস্টার সাহেবের নাম নিতেন আর কাঁদতেন। এমনিতে আমার দাদা-দাদি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ ছিলেন। ছেলের কোনাে কাজে কখনও তারা বাধা দিতেন না, বরং উৎসাহ দিতেন। অত্যন্ত মুক্ত পরিবেশে আমার বাবার মনের বিকাশ ঘটেছে। প্রতিটি কাজ যখনই যেটা ন্যায়সঙ্গত মনে হয়েছে আমার দাদা তা করতে নিষেধ না করে বরং উৎসাহ দিয়েছেন।'