১০ এপ্রিল, ১৯৭২ ঢাকা। বঙ্গবন্ধুর গণপরিষদে দেয়া ভাষণ

বাঙালি পাকিস্তানের আবদার আমাদের দিক দিয়ে দুনিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা,  জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং চেষ্টা হচ্ছে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য। এইরকমের অনেক প্রশ্নই আছে এবং এসম্বন্ধে চেষ্টার ত্রুটি কেউই করছে না। সরকার বারবার বলেছে, সভা সমিতিতে বলেছে... ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সমস্ত দেশে রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যাতে তারা পাকিস্তানের সরকারের কাছে প্রস্তাব করেন এবং আমার লোক যাতে ফেরত দেয় এও বলেছি যে তাদের যারা এখানে থাকবার চায়না তাদেরও আমি ফেরত দিতে রাজি আছি, তবে যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। এটা নিয়ে পাকিস্তান খেলছেন। কিন্তু আমার যারা পাশ্চিম পাকিস্তান আছে তারা যুদ্ধাপরাধী নয়। তারা সেখানে কাজ করতে ছিলেন, তাদের সঙ্গে এদের একভাবে বিচার করা চলেনা। সেজন্যই আমরা দাবি করেছি যে আমাদের লোক যারা আছে ফেরত দাও তোমাদের যারা এই বাংলাদেশে আছে আমরা ফেরত দিচ্ছি,  কিন্তু যুদ্ধাপরাধী জঘন্য যুদ্ধ অপরাধী যারা, যারা এদেশে পাশবিক অত্যাচার করেছে, লুট করেছে, হত্যা করেছে এবং যারা দুনিয়ার ইন্টারন্যাশনাল /আইন মানেনাই তাদের এখানে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার হবে এবং আমি আশাকরি মেম্বার সাহেবদের একটা কথা মনে রাখা দরকার যে প্রস্তাব আনার আগে পার্টির সাথে আলোচনা করেই প্রস্তাব আনবেন। ভবিষ্যতে এটাই আশা করি, এটাই নিয়ম। নাহলে পার্টির শৃঙ্খলা নষ্ট হয়।

 

আমি আশাকরি স্পিকার সাহেব, আমাদের আজকের এজেন্ডা এখানেই শেষ।

 

সূত্রঃ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ- শেখ হাসিনা