গরিব-দুঃখীর সুখেই স্বাধীনতার সার্থকতা

আমার পুলিশ বাহিনীর ভায়েরা, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ও সমবেত অতিথিবৃন্দ, আজ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। যতদিন বাংলার স্বাধীনতা থাকবে, যতদিন বাংলার মানুষ থাকবে, ততদিন এই রাজারবাগের ইতিহাস লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। ২৫ মার্চ রাত্রে যখন ইয়াহিয়া খানের সৈন্যবাহিনী বাংলাদেশের মানুষকে আক্রমণ করে, তখন তারা চারটি জায়গা বেছে নিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়। সেই জায়গা চারটি হচ্ছে- রাজারবাগ, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর আমার বাড়ি। একই সময়ে তারা এই চার জায়গায় আক্রমণ চালায়। রাজারবাগের পুলিশেরা সেদিন সামান্য অস্ত্র নিয়ে বীরবিক্রমে সেই সামরিক বাহিনীর মোকাবেলা করেন। কয়েক ঘণ্টা তুমুল যুদ্ধ করেন। তারা এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করতে। এর জন্য আজ আমি গর্বিত। আজ বাংলার জনগণ গর্বিত। সেদিন বাংলার জনগণের ডাকে, আমার হুকুমে এবং আমার আহ্বানে বাংলাদেশের জনগণের সাথে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী এগিয়ে এসেছিলেন মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে, বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে। স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে রাজারবাগের এবং পুলিশের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পুলিশ। বাহিনীর অনেক কর্মী এখানে যুদ্ধ করতে করতে শহিদ হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা রাস্তায় নেমে যুদ্ধ চালিয়েছিলেন নয় মাস পর্যন্ত। যারা পুলিশ। বাহিনীর বড় বড় কর্মচারী ছিলেন, তাদেরও অনেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

শহিদের সম্মান রাখতে হবে

আজ তিন বছর হলো বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আজ প্রথম আমাদের পুলিশ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। এখন একটা কথা আমাদের মনে রাখা দরকার। যে রক্ত দিয়ে আমরা স্বাধীনতা এনেছি, সেই রক্ত দিয়েই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীর ভায়েরা, এই রাজারবাগে যারা শহিদ হয়েছিলেন, তাদের কথা মনে রাখতে হবে। তারা আপনাদেরই ভাই। তারাও পুলিশে চাকরি করতেন। জনগণের সঙ্গে তারা হাত মিলিয়ে ছিলেন। ৩০ লক্ষ লোকের সঙ্গে পুলিশের অনেক লোকও আত্মত্যাগ করেছিলেন। তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, তাদের ইজ্জত আপনারা রক্ষা করবেন। তাদের সম্মান আপনারা রক্ষা করবেন। তাদের আত্মা যাতে শান্তি পায়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা পাওয়া যেমন কষ্টকর, স্বাধীনতা রক্ষা করা তেমনি কষ্টকর। আজ আপনাদের কর্তব্য অনেক। যে কোনো সরকারের, যে কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনী গর্বের বিষয়। আমার মনে আছে, যেদিন আমি জেল থেকে বের হয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের বুকে ফিরে আসি, সেদিন দেখেছিলাম, আমাদের পুলিশ বাহিনীর না আছে কাপড়, না আছে জামা, না কিছু। অনেককে আমি ডিউটি করতে দেখেছি লুঙ্গি পরে। একদিন রাত্রে তারা আমার বাড়ি গিয়েছিল, তাদের পরনে ছিল লুঙ্গি, গায়ে জামা, হাতে বন্দুক। এই অবস্থায় এই দেশ শুরু হয়েছিল। পাকিস্তানি জালেমরা বাংলাদেশের সম্পদ শুধু লুট করেই নেয়নি, যাবার বেলায় সব ধ্বংস করেও দিয়ে যায়। তারা ভেবেছিল, বাংলাদেশ টিকতে পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশ টিকেছে। বাংলাদেশ থাকবে। বাংলাদেশ থাকার জন্যই এই দুনিয়ায় এসেছে। কেউ কোনোদিন ধ্বংস করতে পারবে না। আজ আমরা জাতিসংঘের সদস্য। আজ দুনিয়ায় আমার বাংলাদেশের পতাকা ওড়ে। আজ দুনিয়ার মাঝে আমার বাংলাদেশের স্থান হয়েছে।

 

পুলিশ এখন জনগণের

একটা কথা আপনাদের ভুললে চলবে না। আপনারা স্বাধীন দেশের পুলিশ। আপনারা বিদেশি শোষকদের পুলিশ নন, জনগণের পুলিশ। আপনাদের কর্তব্য জনগণের সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা। আপনাদের বাহিনী এমন যে, এর লোক বাংলাদেশের গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। আপনাদের নিকট বাংলাদেশের মানুষ এখন একটা জিনিস চায়। তারা যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে। তারা আশা করে, চোর, বদমাইশ, গুণ্ডা, দুর্নীতিবাজ যেন তাদের ওপর অত্যাচার করতে না পারে। আপনাদের কর্তব্য অনেক। আমি জানি, আপনাদের নানারকম অসুবিধা আছে। ৭০ থেকে ৮০টা থানা হানাদার বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছিল, মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল। সেগুলো নতুন করে আমরা গড়তে চেষ্টা করছি। অনেকগুলো গড়া হয়েছে, অনেকগুলোর কাজ চলছে। আপনাদের কিছুই ছিল না। আজ আস্তে আস্তে কিছু কিছু হতে চলেছে। একদিনে কিছুই হবে না। বাংলাদেশের মানুষ দুঃখী, বাংলাদেশের মানুষ গরিব, বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে কষ্ট পায়। যুগ যুগ ধরে তারা শোষিত হয়েছে। আজ তাদের অবস্থা যে কেমন, আপনারা ভালো করেই জানেন। আপনারা বিদেশ থেকে আসেননি, আপনারা ভাড়াটিয়া নন। আপনারা বাংলা মায়ের ছেলে। আপনাদের বাপ-মা এই বাংলাদেশে রয়েছেন। তাদের অবস্থা আপনারা জানেন। গ্রামে গ্রামে আপনারা দেখেছেন, মানুষ হাহাকার করে, না খেয়ে কষ্ট পায়৷ বন্যা, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে কষ্ট আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসের দাম অত্যন্ত বেড়ে গেছে। ফলে, মানুষের খাবার জোগাড় করতে আমাদের বেশ বেগ হতে হচ্ছে। আজ গরিবের ওপর ট্যাক্স ধরার ক্ষমতাও আমাদের বেশি নেই। তারা টাকা কোথেকে দেবেন? তারা না খেয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। এবার যে বন্যা হয়েছে, দুর্ভিক্ষ হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন।

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে

আমি আপনাদের কাছে এই আশা করবো যে, আপনারা হবেন আমার গর্বের বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ যেন আপনাদের জন্য গর্ব অনুভব করতে পারে। আপনারা যদি ইচ্ছা করেন, আপনারা যদি সৎপথে থেকে ভালোভাবে কাজ করেন, যদি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকেন, তাহলে দুর্নীতি দমন করতে পারবেন। আপনারা যদি আজকে ভালোভাবে থাকেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি, যে থানায় ভালো অফিসার আছেন এবং ভালোভাবে কাজ করছেন, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে না। কারণ, তারা সবসময় সজাগ থাকেন এবং দুষ্টকে দমন করেন। যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না। মনে রাখবেন, আপনাদের মানুষ যেন ভয় না করে। আপনাদের যেন মানুষ ভালোবাসে। আপনারা জানেন, অনেক দেশে পুলিশকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। আপনারাও শ্রদ্ধা অর্জন করতে শিখুন। আপনাদের বনে-বাদাড়ে, নদীতে, লোকালয়ে সর্বত্র যখন যেখানে প্রয়োজন পড়ে, ডিউটি করতে হয়। ২৪ ঘণ্টা মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে হয়। অনেকে বলেন যে, সকলের ছুটি আছে, কিন্তু পুলিশের ছুটি নেই। এজন্য আমার দুঃখ হয়। সংখ্যায় আপনারা খুব কম বলেই আপনাদের রাত-দিন কাজ করতে হয়। আমি আপনাদের সব অসুবিধার খবর যে রাখি না, তা নয়। কিন্তু উপায় কী? সাধারণ মানুষের টাকা দিয়েই সব চলে। কিন্তু আজ মানুষের যে অবস্থা, দেশের যে অবস্থা, তাতে তাদের ওপর আর ট্যাক্সের বোঝা চাপানো যায় না। আজ আমরা যারা এখানে আছি, তারা সরকারি বেসরকারি কর্মচারী, পুলিশ, সামরিক বাহিনী, বিডিআর, রক্ষী বাহিনী বা আনসার যা- আমরা হই না কেন, সকলেই এই বাংলাদেশের জনগণের টাকা দিয়েই চলি। এবং সবাইকে রাখা হয়েছে জনগণের সেবা করবার জন্য।

 

সরকারি কর্মচারী জনগণের সেবক

জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী— এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সঙ্গে আর কিছুই নিয়ে যাব না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন, মানুষের ওপর অত্যাচার করবেন? গরিবের ওপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে। তাই, শুধু আপনাদের নয়, সমস্ত সরকারি কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে, তাদের সেবা করুন। যাদের জন্য, যাদের অর্থে আজকে আমরা চলছি, তাদের যাতে কষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে, আপনারা অবশ্যই তাদের কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান, একটা নিরপরাধ লোকের ওপরও যেন অত্যাচার না হয়। তাতে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। আপনারা সেই দিকে খেয়াল রাখবেন। আপনারা যদি অত্যাচার করেন, শেষ পর্যন্ত আমাকেও আল্লাহর কাছে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, আমি আপনাদের জাতির পিতা, আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রী, আমি আপনাদের নেতা। আমারও সেখানে দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের প্রত্যেকটি কাজের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার ঘাড়ে চাপে, আমার সহকর্মীদের ঘাড়ে চাপে। এজন্য আপনাদের কাছে আমার আবেদন রইল, আমার অনুরোধ রইল, আমার আদেশ রইল, আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মতো শাস্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে হয় না। একটা গরিব যদি হাত তুলে আপনাকে দোয়া করে, আল্লাহ সেটা কবুল করে নেন। এজন্য কোনোদিন যেন গরিব-দুঃখীর ওপর, কোনোদিন যারা অত্যাচার করেনি, তাদের ওপর অত্যাচার না হয়। যদি হয় আমাদের স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যাবে। আমার ভায়েরা, এক দল লোকের পয়সার লোভে  অত্যন্ত বেড়ে গেছে ৷ পয়সার জন্য তাদের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। মৃত্যুর পর এ পয়সা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। এই পয়সায় যদি তাদের সন্তানরা মানুষ না হয়, তাহলে তারা নানা অপকর্মে তা উড়িয়ে দেবে। তাতে তারা লোকের অভিশাপ কুড়িয়ে আখেরাতেও শান্তি পাবে না। তাই আমি সকলকে অনুরোধ করি, রাত্রে একবার চিন্তা করবেন সারাদিন ভালো কিছু করেছেন, না মন্দ করেছেন। দেখবেন, এতে পরের দিন মনে আশা জাগবে যে, আমি ভালো কাজ করতে পারি। এদেশের মানুষ বহু কষ্ট করেছে। যুগ যুগ ধরে তারা কষ্ট করছে। এই বাংলাদেশে কয়েক হাজার লোক না খেয়ে মারা গেছে- এ কথা আমি গোপন করিনি। বিদেশ থেকে খাবার আনতে চেষ্টা করেছি। নিরন্ন মানুষদের খাওয়ার জন্য পাঁচ হাজার সাতশোর মতো লঙ্গরখানা চালু করা হয়েছিল। সরকারি কর্মচারী ও রাজনৈতিক কর্মীরা মিলে সেইসব লঙ্গরখানা চালিয়েছেন। কোনোমতে আমরা এই দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। মাঠে, কলকারখানায় সর্বত্র আমাদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে। কোনোরূপ ফ্যাশন আর চলবে না। এই তিন বছরে অনেক ফ্যাশন হয়েছে। কিন্তু যে ফ্যাশন বজায় রাখতে গিয়ে মানুষ তার নিজের কাজে ফাঁকি দেবে, চুরি-ডাকাতি করবে, আর বড় বড় কথা বলবে, সে ফ্যাশন আর করতে দেওয়া হবে না। মানুষের সহ্যের সীমা আছে। আমারও সহ্যের সীমা আছে। এবার আমি আপনাদের কাছে সাহায্য চাই। আপনারা একবার আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করুন— 'আমরা দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকব।' প্রতিজ্ঞা করুন— ‘আমরা দুর্নীতিবাজদের খতম করব।' প্রতিজ্ঞা করুন– 'আমরা দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষকে ভালোবাসব।' প্রতিজ্ঞা করুন— ‘আমরা দেশের মাটিকে ভালোবাসব। যারা দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, রাতের অন্ধকারে যারা মানুষ হত্যা করে, থানা আক্রমণ করে, অস্ত্র নিয়ে আপনাদের মোকাবেলা করে; বাংলাদেশের মাটি থেকে তাদের উৎখাত করুন।

 

দুর্নীতিবাজদের খতম করতে হবে

আপনাদের দুঃখ-কষ্টের কথা আমি জানি আপনাদের খাওয়া-পরার কষ্টের কথাও। কিন্তু কষ্ট কি শুধু আপনারাই করছেন? যাদের টাকা দিয়ে আমরা চলি, তারাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট করছে। আমরা চাই একটা শোষণহীন সমাজ। আমরা চাই ইনসাফের রাজত্ব। আমরা চাই মানুষ সুখী হোক। গরিব-দুঃখী, বড়-ছোট সবাই পেট ভরে ভাত খাক। তাহলেই তো আমাদের স্বাধীনতা সার্থক হবে। যারা আত্মত্যাগ করেছে, রক্ত দিয়েছে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আজ হতে শুরু হোক আপনাদের নতুন জীবন। এই পুলিশ সপ্তাহ থেকে আপনারা নতুন মনোভাব নিয়ে কাজ শুরু করুন, যাতে বাংলাদেশের পুলিশ দুনিয়ার বুকে গর্বের বস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। এটিই আমি চাই আপনাদের কাছে। আপনাদের জন্য আমার সহানুভূতি আছে। আপনারা জনেন, আপনাদের আমি ভালোবাসি। আপনাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করেও আমি ক্লান্তিবোধ করি না। কিন্তু আমি চাই, আপনারা মানুষকে ভালোবাসুন। তাহলেই শান্তি আসবে।আমি আপনাদের এই সপ্তাহের কামিয়াবি কামনা করি এবং আরও কামনা করি, সব পুলিশ কর্মচারী, যিনি যেখানেই থাকুন না কেন, সবাই যেন সৎ হওয়ার এবং মানুষকে ভালোবাসার সুযোগ পান। আজকে আপনারা আরও প্রতিজ্ঞা করুন আমরা এমন পুলিশ গঠন করব, যে পুলিশ হবে মানুষের সেবক; শাসন নয়'। আমি পুলিশ বাহিনীর ভাইদের আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে বলছি, একদিন বাংলার মানুষ সুখী হবে— এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সৎপথে থাকতে হবে।


খোদা হাফেজ

জয় বাংলা