প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮)

 ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু তার সহকর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়াস নেন। এজন্য গঠন করা হয় একটি পরিকল্পনা কমিশন। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার ধ্যানধারণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম শুরু হয়। কৃষি, শিল্প, ভূমি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্য, রাজস্ব আদায়পদ্ধতি, সরকারি ব্যয় ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের অবস্থান দৃঢ়তর হতে থাকে। পরিকল্পিত উপায়ে দেশ গঠন এবং জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) প্রণীত হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছা অনুসারে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্ল্যানিং কমিশন প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। এই পুনর্গঠিত প্ল্যানিং কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখেন বঙ্গবন্ধু। 

প্ল্যানিং কমিশনের কাজের বিষয়ে বলা হয়:

() গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আর্থ-সামাজিক উদ্দেশ্যাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক উন্নয়নের জন্য বার্ষিক, পঞ্চ বার্ষিক পটভূমি তৈরিতে জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

() জাতীয় পরিকল্পনার রূপরেখার মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরি করবে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নীতিমালাও নির্ধারণ করবে।

() সম্পাদিত পরিকল্পনার মূল্যায়ন করবে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির দিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে লক্ষ রাখবে। জাতীয় পরিকল্পনার মূল্যায়ন প্রস্তুত করতে এসব করতে হবে।

() অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে এবং অর্থনৈতিক নীতি এবং ব্যবস্থাদি প্রকাশ করবে।

() বহিঃসাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের মোট পরিমাণ এবং প্রকৃতি নিয়ে দেনদরবার করবে।

() জাতীয় পরিকল্পনার মূল্যায়নের সঙ্গে বহিঃঋণ বিষয় পরীক্ষা করে তৎসম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

() কার্যকরী পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের সমর্থনে অর্থনৈতিক গবেষণার ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা এগিয়ে নিতে এবং জরিপ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

() জাতীয় পরিকল্পনার বার্ষিক কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক নীতিমালা কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রাপ্তব্য প্রক্রিয়ার প্রকৃতির বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবে।

() পরিকল্পনা প্রণয়নে উদ্বুদ্ধ করতে এবং প্রয়োজনে তা সূচনা করতে হবে; জাতীয় উদ্দেশ্যের সঙ্গে পরিকল্পনাগুলি সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তা নির্ণয় করতে কর্মসূচি গ্রহণ এবং পরিকল্পনা সম্বন্ধে পরীক্ষা এবং পরামর্শ প্রদান করতে হবে।

(১০) অনুমোদিত পরিকল্পনাগুলোতে বিশেষ করে সাহায্য প্রাপ্ত পরিকল্পনাগুলার বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্বন্ধে পর্যালোচনা করতে হবে; এসব বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণসমূহ এবং অসুবিধাসমূহকে চিহ্নিত করতে হবে তা দূর করার উপায় বের করতে হবে।